কত কথা বলা হয় না ।
কত চোখে চাওয়া হয় না ।
ভীরু আমি, নিঃস্ব আমি,
If you are unable to read this Bangla travelogue due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.
ছোট্ট ছুটির ফাঁদে পা দিয়ে বেরিয়ে পড়ার উপযুক্ত দেশ কর্ণাটক । রাজধানী বেঙ্গালুরু আর রাজ্যপাট ছড়ানো মহীশুরের আশেপাশে আনাচে কানাচে কাবেরী, কাবিনি, কপিলা নদীর ধারে ধারে, পাহাড়ের গা ঘেঁষে, অরণ্যের অতলে লুকিয়ে আছে সৌন্দর্য । এদের কাছে পৌঁছবার পথটা এদেরই মত চিত্তাকর্ষক । উড়ান নয়, রেলযাত্রা নয় । একেবারে পথটুকু ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলা । এমনি এক গন্তব্য চিকমাগালুর । বাবাবুদান পাহাড়ের গা ঘেঁষে শান্ত শহর চিকামাগালুর – ছোট কন্যের দেশ । রাজার ছোট মেয়ের সম্পত্তি – তাই এই নাম । বেঙ্গালুরু থেকে মাত্র ২৫১ কিলোমিটার দূরে । কি সুন্দর পথ! ভালো লাগলো তো থমকে থেমে নাও খানিক । বাধা নেই । পথের দুধারে নানা রকম সবুজ – গাঢ় – আরও গাঢ় – হালকা – আরও হালকা – একেবারে কচি নতুন পাতার সবুজ – পান্নার পথ সত্যিই । কালো তিরতিরে পথটি – এঁকেবেঁকে ছুটে চলেছে । এদিক, ওদিক ছড়ানো ছেটানো একহারা খামারবাড়ি, গির্জা, মন্দির, মসজিদ, মানুষের বসতি, ছোট ছোট দোকান । দোকানিদের হাসিমুখ । বেসাতির ফাঁকে ফাঁকে ঘরগেরস্থালির খবর দেওয়া নেওয়া । এ এক জীবন। আমাদের জীবন থেকে কত ভিন্ন এর সুর ! এদের দেখলে মনে হয় না তো জীবনে কোথাও কিছু কম পড়েছে ! প্রাচুর্য নেই, কিন্তু প্রশান্তির অভাব নেই চোখে মুখে । অকৃপণ প্রকৃতির মাঝখানে বাস বলেই কি এত পূর্ণতার ঔজ্জ্বল্য? আমাদের নগরজীবনের কয়েদখানায় এ পূর্ণতার ছবি নিয়ত চোখে পড়ে না তো ! সে যাক্, ছুটে ছুটে ক্লান্ত হয়ে পথ তো থামে অবশেষে । পথ না পথিক ! পথের নাকি শেষ নেই ! অস্থায়ী আস্তানা খুঁজে খুঁজে যেখানে পৌঁছয় ক্লান্ত পথিক – সে জায়গাটি মন জুড়ানো, চোখ জুড়ানো। তাজ গার্ডেন রিট্রিট । পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আরামের আশ্বাস । ছিমছাম নির্জন ঘরের লাগোয়া ছোট্ট চিলতে বারান্দা । তার থেকে এক ধাপ নিচেই সবুজ গালিচা । ঘরের মেয়ে লজ্জাবতী যেমন আছে সেখানে, তেমনি আছে বাহারি ফুল নানা রঙের । আর আছে ছোট ছোট পাখি । এ গাছ থেকে ও গাছ তাদের নিরন্তর ছোটাছুটি । আসা যাওয়ার পথে স্থবির গাছগুলির বুকে দোল দিয়ে যায় । বারান্দার দেওয়ালে বড় গাছের ছায়া কাঁপে তিরতির । আর আলোয় ছায়ায় কত না ছবি আঁকা হয় প্রতি মুহূর্তে ! খাবার ঘরের পাশে গোলপাতা ঝুপসি গাছটায় বাস করে এক গিরগিটি । মানুষকে তার ভয় যত, দেখার শখও তার চেয়ে কিছু কম নয় । ঘরগুলির মাঝখানে সাঁতারপুকুরের নীল জল টলটল । তার পাশে বসে নতুন জ্যোৎস্না আর পাহাড়ি বাতাস গায়ে মেখে শহুরে মন জুড়োয় ।
এরপর পথ চলে উপরপানে । এবারে সে পাকদণ্ডী । ঘুরে ঘুরে বনের মধ্য দিয়ে, কচিপাতার সঙ্গে সখ্য পাতিয়ে, এলাচঝোপকে দুলিয়ে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয় । কেম্মনগুণ্ডি । চিকমাগালুরের ৫৫ কিলোমিটার উত্তরে । বাবাবুদান পাহাড়ে ১৪৩৪ মিটার উচ্চতায় সুন্দর পাহাড়ি শহর । পাহাড়ের মাথায় কৃত্রিম সমতল ফুলে ফুলে ভরা । সেখানেও আস্তানার আশ্বাস । সরকারি ব্যবস্থাপনা । এছাড়াও আছে “Nature Nirvana” । এখান থেকে যতদূর চোখ যায় – শুধু সবুজ । আর সবুজের ফাঁকে ফাঁকে প্রকৃতির ভালবাসার ছোঁয়া । কোথাও তার আদরের রঙ গাঢ় লাল, কোথাও ফিকে বেগ্নি, কোথাও হালকা গোলাপি, আবার কোথাও ঝলমলে হলুদ । মনের বিস্তার বাড়ে এ উদারতার সামনে । এ শুধু দিয়ে যাওয়া । প্রতিদানের প্রত্যাশা নেই ।
চিকমাগালুর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কর্ণাটকের সর্বোচ্চ পাহারচূড়া – মুল্লায়নগিরি । ৬০০০ ফিটেরও বেশী উচ্চতায় সূর্যাস্ত মনকাড়া ।
দত্তাত্রেয় পীঠ- বাবাবুদান গিরিচূড়ায় আরেকটি আকর্ষণ । প্রকৃতির তৈরী এক গুহায় মানুষের ভালবাসার, শ্রদ্ধার, সমর্পণের তীর্থ
। হিন্দু, মুসলমান উভয় সম্প্রদায় পবিত্র মানেন এই তীর্থকে । সুফি সন্ত বাবাবুদানই দত্তাত্রেয় নামেও পরিচিত ছিলেন – এমনটাই শোনা যায় । গুহার অভ্যন্তরে একপাশে হিন্দুর তীর্থ, অন্যপাশে মুসলমানের । চিকমাগালুর থেকে ৩২ কিলোমিটার এর দূরত্ব । এদেশের লোক বলেন বাবাবুদান ষোড়শ শতাব্দীতে সাতটি কফির বীজ এনেছিলেন পশ্চিম এশিয়া থেকে । তাঁর রোপণ করা সেই সাতটি বীজ ভারতবর্ষে কফির স্বাদ পৌঁছে দেয় ।
তীর্থদর্শন করে ফিরে চলা চিকমাগালুর । সবুজের দেশ চিকমাগালুর । সুন্দরের দেশ চিকমাগালুর । শান্ত এই সুন্দরের পায়ের কাছে দাঁড়ালে ঘরবসতের চিন্তা, ভয়ভাবনা, দুঃখ, রাগ, বিদ্বেষ মুহূর্তে উধাও । মন বলে – “হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে, যাহা-কিছু সব আছে আছে আছে … ।”

পথের হদিশ:
কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু আসা যায় ট্রেনে কিম্বা উড়ানে । বেঙ্গালুরু পৌঁছে খোঁজ নিতে হবে ট্যাক্সি কিম্বা সরকারি / বেসরকারি বাসের । শহর থেকে চিকমাগালুর পৌঁছনো যায় ৫-৫১/২ ঘন্টায় । তাজে অগ্রিম জানিয়ে ঘর নির্দিষ্ট করে রাখা প্রয়োজন, যেহেতু অন্য আশ্রয়ের আশ্বাস নেই ।
If you are unable to read this Bangla poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.
আমাকে জীবন দাও ।
প্রাণের স্পন্দন দাও আমাকে ।
জন্মের প্রথম লগ্ন থেকে
তোমার প্রত্যুষ, দিন, প্রদোষের স্পর্শস্পৃহ আমি ।
আমাকে সঙ্গী করো ।
প্রাণের স্পন্দন দাও আমাকে ।
আমাকে আনন্দ দাও ।
তোমার উষ্ণতা দাও আমাকে ।
প্রেয়সীর প্রথম স্পর্শের মত
রোমাঞ্চমুখর হোক তোমার প্রেমের স্পর্শটুকু ।
আমাকেও ভালবাসো ।
তোমার উষ্ণতা দাও আমাকে ।
আমাকে অবয়ব দাও ।
নির্বাসন দিও না আমাকে ।
বিস্মৃতির অতলান্ত থেকে
বর্তমান আলোর বলয়ে প্রাণের প্রতিষ্ঠা করো ।
নিঃসঙ্গ নির্বল আমি একা ।
নির্বাসন দিও না আমাকে ।
হৃদয়অমিয় দাও ।
যূথযুক্ত করো আমাকে ।
তোমার আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, কল্পনার বিচিত্র জগতে
আমাকে লিপ্ত করো ।
হৃদয়অমিয় দাও ।
একা হতে দিও না আমাকে ।
If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.
এ পৃথিবী ক্লান্ত করে বড় ।
প্রত্যহের ঘরে শুধু ক্লেদ ।
জনাকীর্ণ জনপদ -
জীবনের স্তরে স্তরে মেদ ।
বিচ্ছিন্ন কপোতকক্ষ
অতিথির পদশব্দহীন ।
সাজানো চৌখুপী দ্বীপ
একা ভেসে থাকে রাত্রিদিন ।
ভোরের প্রথম আলো,
ফাল্গুনের প্রথম সাঁঝতারা -
অভিমানী ফিরে যায় …
বিলাসী নগর দিশাহারা !
তবুও শ্রাবণী রাতে
চকিত চাঁদের কড়া নাড়া !
চৌখুপী দ্বীপের দোরে দোরে
চলো পুঁতি বিবেকের চারা ।
If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.
এ বাড়ির ব্যালকনি
ও বাড়ির ব্যালকনিকে চেঁচিয়ে বললে -
‘ ও মা দেখ, দেখ ! লোকটা বোধহয় মরলো !’
ও বাড়ির ব্যালকনি চোখ কপালে তুলে চেঁচালে -
‘ ও মা সেকি! এই ভরদুপ্পুরে ?
কি অলুক্ষুণে কাণ্ড বল্ ভাই ! ‘
তারপর এ বাড়ি ও বাড়ি
চোখ চাওয়াচাওয়ি, মুখ চাওয়াচাওয়ি করলে ।
দু ব্যালকনির দরজাদুটো বন্ধ হল।
বন্ধ দরজার আড়ালে বিবেক লুকোল ।
লোকটা কিন্তু তখনো মরেনি ।
দোকাঘরটার নোংরা দেওয়ালে
পিঠ ঠেকানো ছিল ।
আর বুকটা উঠছিল, নামছিল -
হাপরের মত ।
লোকটা বিড়বিড় করে বলছিল -
‘একটু জল ! একটু জল দাও ! একটু জল দেবে ?’
বলছিল -
কিন্তু কেউ শুনছিল না ।
কোনো মা লক্ষ্মী , নবকার্তিক অথবা পুরুষসিংহ -
কেউ না ।
রাস্তায় ছড়ানো ছিল তারা ।
তবু শুনছিল না ।
ওদের কানের মাথা শহর খেয়েছে।
আর চোখের মাথা ?
নিজেরাই !
শুকনো কাঠ বুক ,
শুকনো কাঠ দিন ।
ফুটিফাটা ঠোঁটে, জিভে
একটু লালাও ছিল না ।
মৃত্যু আসছিল -
পায়ে পায়ে, আস্তে আস্তে -
অমোঘ, স্থিরসঙ্কল্প ।
অসহায় শিকারকে গ্রাস করছিল
মাকড়সার মত ।
লোকটা মরে যাচ্ছিল ।
কিন্তু কেউ জানতে চাইছিল না ।
ঘাড় এলানো, শরীর এলানো ,
চামড়া কুঁচকোনো বুড়ো লোকটা -
একটু একটু করে মরে যাচ্ছিল ।
শহর তাকিয়ে দেখছিল না ।
মানুষ তলিয়ে ভাবছিল না ।
ব্যালকনির বন্ধ দরজার ওধারে -
মানুষ ছিল ! মানুষ ছিল না ।
If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.
হলুদ বনে বনে,
আমার মায়ের ভাষা হারিয়ে গেল …
সুখ নেইকো মনে !
বাহির, ভিতর, চেনা, অচিন –
একই ভাষায় ডাকে ।
যে বোল চেনায় মানুষকে,
সেই বোলটি পড়ে ফাঁকে ।
আর মনের কোণে কোণে,
আমার মায়ের ভাষা গুমরে মরে -
সুখ নেইকো মনে !
মায়ের ভাষা গরব, আশা -
এ আজ কবিকথা !
এদেশ, ওদেশ, এ ঘর, ও ঘর –
এক বুলিতে গাঁথা ।
একই ভাষায় ওঠা পড়া,
এক ভাষাতেই কাঁদন,
একই ভাষায় শাপমন্যি –
বুলির বালির বাঁধন !
বালির বাঁধন আলগা, অলস -
মনের তারে টান !
মায়ের ভাষা – মনের ভাষা,
ভালবাসার গান ।
আমি হারাই, তুমি হারাও –
ক্ষতি কি কার তাতে !
মায়ের ভাষা বেঁচে থাকুক
ঘরের দুধে ভাতে ।