আঁকিবুকি

খেয়ালী লেখা

ছায়াসঙ্গী কায়াসঙ্গী জুন 14, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 11:28 pm
Tags: , , , ,

If you are unable to read this Bangla poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.


আমাকে জীবন দাও ।

প্রাণের স্পন্দন দাও আমাকে ।

জন্মের প্রথম লগ্ন থেকে

তোমার প্রত্যুষ, দিন, প্রদোষের স্পর্শস্পৃহ আমি ।

আমাকে সঙ্গী করো ।

প্রাণের স্পন্দন দাও আমাকে ।


আমাকে আনন্দ দাও ।

তোমার উষ্ণতা দাও আমাকে ।

প্রেয়সীর প্রথম স্পর্শের মত

রোমাঞ্চমুখর হোক তোমার প্রেমের স্পর্শটুকু ।

আমাকেও ভালবাসো ।

তোমার উষ্ণতা দাও আমাকে ।


আমাকে অবয়ব দাও ।

নির্বাসন দিও না আমাকে ।

বিস্মৃতির অতলান্ত থেকে

বর্তমান আলোর বলয়ে প্রাণের প্রতিষ্ঠা করো ।

নিঃসঙ্গ নির্বল আমি একা ।

নির্বাসন দিও না আমাকে ।


হৃদয়অমিয় দাও ।

যূথযুক্ত করো আমাকে ।

তোমার আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, কল্পনার বিচিত্র জগতে

আমাকে লিপ্ত করো ।

হৃদয়অমিয় দাও ।

একা হতে দিও না আমাকে ।

 

এখনো আঁধার জুন 14, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 2:07 pm
Tags: , , , ,

If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.

 

এ পৃথিবী ক্লান্ত করে বড় ।
প্রত্যহের ঘরে শুধু ক্লেদ ।
জনাকীর্ণ জনপদ -
জীবনের স্তরে স্তরে মেদ ।

 

বিচ্ছিন্ন কপোতকক্ষ
অতিথির পদশব্দহীন ।
সাজানো চৌখুপী দ্বীপ
একা ভেসে থাকে রাত্রিদিন ।

 

ভোরের প্রথম আলো,
ফাল্গুনের প্রথম সাঁঝতারা -
অভিমানী ফিরে যায় …
বিলাসী নগর দিশাহারা !

 

তবুও শ্রাবণী রাতে
চকিত চাঁদের কড়া নাড়া !
চৌখুপী দ্বীপের দোরে দোরে
চলো পুঁতি বিবেকের চারা ।

 

মানুষটা না ফানুসটা ! জুন 3, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 10:23 pm
Tags:

If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.

 

এ বাড়ির ব্যালকনি
ও বাড়ির ব্যালকনিকে চেঁচিয়ে বললে -
‘ ও মা দেখ, দেখ ! লোকটা বোধহয় মরলো !’
ও বাড়ির ব্যালকনি চোখ কপালে তুলে চেঁচালে -
‘ ও মা সেকি! এই ভরদুপ্পুরে ?
কি অলুক্ষুণে কাণ্ড বল্‌ ভাই ! ‘
তারপর এ বাড়ি ও বাড়ি
চোখ চাওয়াচাওয়ি, মুখ চাওয়াচাওয়ি করলে ।
দু ব্যালকনির দরজাদুটো বন্ধ হল।
বন্ধ দরজার আড়ালে বিবেক লুকোল ।

 

লোকটা কিন্তু তখনো মরেনি ।
দোকাঘরটার নোংরা দেওয়ালে
পিঠ ঠেকানো ছিল ।
আর বুকটা উঠছিল, নামছিল -
হাপরের মত ।
লোকটা বিড়বিড় করে বলছিল -
‘একটু জল ! একটু জল দাও ! একটু জল দেবে ?’
বলছিল -
কিন্তু কেউ শুনছিল না ।
কোনো মা লক্ষ্মী , নবকার্তিক অথবা পুরুষসিংহ -
কেউ না ।
রাস্তায় ছড়ানো ছিল তারা ।
তবু শুনছিল না ।
ওদের কানের মাথা শহর খেয়েছে।
আর চোখের মাথা ?
নিজেরাই !

 

শুকনো কাঠ বুক ,
শুকনো কাঠ দিন ।
ফুটিফাটা ঠোঁটে, জিভে
একটু লালাও ছিল না ।

 

মৃত্যু আসছিল -
পায়ে পায়ে, আস্তে আস্তে -
অমোঘ, স্থিরসঙ্কল্প ।
অসহায় শিকারকে গ্রাস করছিল
মাকড়সার মত ।
লোকটা মরে যাচ্ছিল ।
কিন্তু কেউ জানতে চাইছিল না ।
ঘাড় এলানো, শরীর এলানো ,
চামড়া কুঁচকোনো বুড়ো লোকটা -
একটু একটু করে মরে যাচ্ছিল ।

 

শহর তাকিয়ে দেখছিল না ।
মানুষ তলিয়ে ভাবছিল না ।
ব্যালকনির বন্ধ দরজার ওধারে -
মানুষ ছিল ! মানুষ ছিল না ।