আঁকিবুকি

খেয়ালী লেখা

অনন্ত গান নভেম্বর 15, 2009

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 6:51 pm
Tags: , , , ,

আমার মধ্যে কটা আমি!
হিসেব কষতে বসেই দেখি
থই মেলে না। কোথায় থামি!

 

একটি আমির ভাল লাগে
ভোরের তারা, সাঁঝের বাতি।
অপরটি – সে ভালবাসে
আঁধারঘেরা নিশীথ রাতি।
আলো-আঁধার, কালো-উজল
দুই-ই কি হয় সমান দামী!

 

যে আমিটির মন কেড়েছে
রূপসাগরে মনের মানুষ,
সেই আমিটিই হঠাৎ হাওয়ার
ভাসানস্রোতে ওড়ায় ফানুস।
শিকড় টানে। আকাশ ডাকে।
পথহারা মন মধ্যগামী।

 

একটি আমির গহীন রাতে
একলা ঘরে শ্রান্ত রোদন।
অন্য আমির রোজ প্রভাতে
পূবের আলোয় দিন-আবাহন।
এমনি করেই আলোয়-কালোয়
অতীত হবে দূর আগামী।

 

লজ্জা জুলাই 27, 2009

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 12:19 am
Tags: , , , ,

অবসাদ –
বিষণ্ণ সায়াহ্নের স্বাদ।

 

আলোকলতার পাতা নতমুখী, নিরুপায় রাধা।
কৃষ্ণ মেঘ অবিশ্রাম লালসার্দ্র আশ্লেষের ধারে
নিস্তেজ করেছে তার প্রাণবতী জীবন, যৌবন।

 

নতনেত্র আকাশের অক্ষিপত্রে অনিদ্রার কালো।
চিরপ্রিয়া ধরিত্রীর নগ্ন বক্ষ ব্যথায় আতুর।
হৃতবস্ত্রা নগরীর লজ্জা দেখে কৃষ্ণ গেছে বনে।

 

শুধু কাম, শুধু মোহ, শুধু দেহ, বিষাক্ত নিঃশ্বাস।
অভিমানী যাজ্ঞসেনী হতমানা, নিঃস্ব, নিরাশ্বাস।

 

কৃষ্ণ শুধু কালো? শুধু আদিগন্ত তমসায় লীন?
অপাবৃত হও সখা! প্রতীক্ষায় রাত জাগে দিন।

 

শঙ্কাতুর ফেব্রুয়ারি 21, 2009

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 8:17 am
Tags: , , , ,

 

কত কাজ করা হয় না ।
অন্তরমাধুরী বৃথা যায় ।
ভ্রান্তির আশঙ্কায়,
প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয় না ।
অবসাদ প্রাচীরের মত
বহির্বাতাসের পথ রুদ্ধ করে রাখে ।

কত কথা বলা হয় না ।
মাহেন্দ্রমুহূর্ত বৃথা যায় ।
প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায়,
মন-বাক্যের মেলবন্ধন হয় না ।
একাকীত্ব শাণিত অস্ত্রের মত
শব্দের সংসার ধ্বংস করে ।

কত চোখে চাওয়া হয় না ।
আকুল আহ্বান বৃথা যায় ।
আশাভঙ্গের শঙ্কায়,
নিঃশব্দ দৃষ্টির ভাষা অপঠিত থাকে ।
নিরর্গল অশ্রুর প্লাবন
নিয়ত আশ্রয়চ্যুত করে ।

ভীরু আমি, নিঃস্ব আমি,
বিভ্রান্ত, নিরবলম্ব আমি -
দিনরাত্রি চরাচরে ভাসি ।

 

 


 

অবিচলিত জানুয়ারি 17, 2009

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 10:03 pm
Tags: , , , ,
দিনের কাছে মাথা নোয়াব না ।
ক্ষণোজ্জ্বল বহুরূপী দিন -
তার অনুভাবে বিচলিত হব না ।
তার বর্ণচ্ছটায় পথভ্রষ্ট হব না ।
আমাকে সে চঞ্চল করে ।
অথচ, আমার উদ্বাহু আলিঙ্গনকে তুচ্ছ করে,
আমার আতপ্ত অন্তরকে অবজ্ঞা করে,
আমার সদর অন্দর আঁধার করে -
অনধীন স্বেচ্ছাচারী দিন
ক্রন্দসীর রক্তিম কন্ঠমূলে মুখ ঢাকে ।

রাতের কাছে মাথা নোয়াব না ।
অচঞ্চল অন্ধকার রাত -
তার প্রগাঢ়তায় আশঙ্কিত হব না ।
তার দুর্ভেদ্য বিস্তারে বিহ্বল হব না ।
আমাকে সে অধিকার করে ।
অথচ, আমার আকুল আকাঙ্ক্ষাকে নগ্ন করে,
আমার অনিদ্র প্রতীক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করে,
আমার তমসার্দ্র কামনাকে প্রকট করে -
অনিরুদ্ধ আত্মগর্বী রাত
পূষার প্রত্যুষরথে অহনার অনুগামী হয় ।

জীবনের কাছে মাথা নোয়াব না ।
রূপদক্ষ অধ্বগ জীবন -
তার প্রলোভনে দিগ্‌ভ্রান্ত হব না ।
তার মধুচক্রে বিলুপ্ত হব না ।
আমাকে সে আকর্ষণ করে ।
অথচ, নিরায়ুধ আমাকে উপেক্ষা করে,
নিঃসঙ্গ আমাকে নিরাশ্রয় করে,
নিমজ্জমান আমাকে নিরাশ করে -
পরশ্রমজীবী এ জীবন
আমাকে তৃষ্ণার্ত জেনে তবু অভীষ্টপূরণে ব্রতী হয় ।

অভিমানী আমি – চিরাগত মৃত্যুকে ভালবাসবো ।


 

প্রত্যাবর্তন জানুয়ারি 2, 2009

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 12:30 am
Tags: , , , ,

 

ও মেয়ে, তোর মুখটি কেন ভার?
চোখটি ছলোছল?
মনপবনের নাও ভাসিয়ে
বইছে নোনা জল !
কেন – আমায় খুলে বল ।

এই তো কেমন হিমেল হাওয়া,
গাছের পাতায় আলো ।
ভোরের সূয্যি ঢেকে দিলেন
রাতকলসের কালো ।
রূপসী দিন প্রেক্ষণিকা,
পূর্ণ ঢলোঢল ।
তবু চোখটি ছলোছল !
কেন – আমায় খুলে বল ।

একদা কাকচক্ষু মনে প্রাত্যহিকের কালি ।
পড়শি গেছে দেশান্তরে, আয়নামহল খালি ।
আঁটকুঠুরি – ঝাঁট পড়ে না – জমছে ধুলোবালি ।

নিকিয়ে নে না উঠোনখানা,
সাজিয়ে নে না ঘর ।
আঁধারজমা আঁটকুঠুরি
আলোয় মেলে ধর ।
অমনি দেখবি বিহানবেলায় ক্রন্দসী যায় ভেসে ।
গহীন রাতে আলাপচারি – পড়শি এল দেশে ।

 

 
 

প্রান্তলীন ডিসেম্বর 24, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 1:20 pm
Tags: , , , ,

প্রতিদিন ভাবি – বিষণ্ণ হবো না ।
সদর খিড়কি এঁটে রাখবো ।
সাঁঝবাতি জ্বেলে রাখবো ।
বিষাদের বেনোজলে
নিকনো উঠোন, ঘরবসত ভিজতে দেবো না ।
প্রতিদিন ভাবি ।

প্রতিদিন ভাবি – বিপন্ন হবো না ।
বুকের ধারে বাঁধ বাঁধবো ।
যুক্তিতক্কো শানিয়ে রাখবো ।
কথার মারে
মনপেয়ালায় ঝোড়ো হাওয়া উঠতে দেবো না ।
প্রতিদিন ভাবি ।

প্রতিদিন ভাবি ।
তবু প্রতিদিনই -
ভোর তেতে ওঠে দুপুরে ।
দুপুর তেতে ওঠে রাতে ।
আলো গড়ায় আঁধারে ।
মনের মরা খাতে -
বিষাদ বানভাসি ।
সদর-খিড়কি হাট-কপাট ।
সাঁঝপিদিমে জলের ছাঁট ।
আঁধারভেজা ঘরবসতে -
উদান অট্টহাসি ।

তবু – প্রতিদিন ভাবি ।
 

 

অন্যমনা ডিসেম্বর 22, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 9:50 pm
Tags: , , ,

 

 

সে আমাকে প্রতিনিয়ত বলে –

‘আমাকে ভালবাসো ।’
আমি বলি – ‘বাসবো ।’

নিশ্চুপ ভোরে ঘুমভাঙা সূর্যের আলোয় পথ চিনে
সে আসে ।
নিশ্ছিদ্র প্রদোষে একলা তারাকে পথ চিনিয়ে সে আসে ।
বলে – ‘আমাকে ভালবাসো ।’
আমি বলি – ‘বাসবো ।’

আমার দিনযাপনের ছত্রে ছত্রে খেদ ।
আমার মনমহলের স্তরে স্তরে মেদ ।
আমার নিঃঝুম নীড় – দু চোখে নেই আলো ।
আমার ভুবনজোড়া অমানিশার কালো ।

তবু –
বিষণ্ণ বিরত আমাকেই ভালবেসে সে বলে –
‘আমাকে ভালবাসো ।’
আমি বলি – ‘বাসবো ।’

জন্মের ক্রন্দন থেকে মৃত্যুর ক্রন্দনের পথে –
আমার সনিষ্ঠ সঙ্গীর কাছে –
এ আমার অনান্তরিক অঙ্গীকার ।

সে জানে ।
তবু ভালবাসে ।
আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিই ।
বলি – ‘ভালবাসবো ।’
প্রতীক্ষায় রাখি । কিন্তু নিশ্চেষ্ট নির্লিপ্ত একা থাকি ।
সেই ভালবাসে ।
বলে – ‘আমাকে ভালবাসো ।’
আমি বলি – ‘বাসবো ।’

 

ছায়াসঙ্গী কায়াসঙ্গী জুন 14, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 11:28 pm
Tags: , , , ,

If you are unable to read this Bangla poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.


আমাকে জীবন দাও ।

প্রাণের স্পন্দন দাও আমাকে ।

জন্মের প্রথম লগ্ন থেকে

তোমার প্রত্যুষ, দিন, প্রদোষের স্পর্শস্পৃহ আমি ।

আমাকে সঙ্গী করো ।

প্রাণের স্পন্দন দাও আমাকে ।


আমাকে আনন্দ দাও ।

তোমার উষ্ণতা দাও আমাকে ।

প্রেয়সীর প্রথম স্পর্শের মত

রোমাঞ্চমুখর হোক তোমার প্রেমের স্পর্শটুকু ।

আমাকেও ভালবাসো ।

তোমার উষ্ণতা দাও আমাকে ।


আমাকে অবয়ব দাও ।

নির্বাসন দিও না আমাকে ।

বিস্মৃতির অতলান্ত থেকে

বর্তমান আলোর বলয়ে প্রাণের প্রতিষ্ঠা করো ।

নিঃসঙ্গ নির্বল আমি একা ।

নির্বাসন দিও না আমাকে ।


হৃদয়অমিয় দাও ।

যূথযুক্ত করো আমাকে ।

তোমার আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, কল্পনার বিচিত্র জগতে

আমাকে লিপ্ত করো ।

হৃদয়অমিয় দাও ।

একা হতে দিও না আমাকে ।

 

এখনো আঁধার জুন 14, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 2:07 pm
Tags: , , , ,

If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.

 

এ পৃথিবী ক্লান্ত করে বড় ।
প্রত্যহের ঘরে শুধু ক্লেদ ।
জনাকীর্ণ জনপদ -
জীবনের স্তরে স্তরে মেদ ।

 

বিচ্ছিন্ন কপোতকক্ষ
অতিথির পদশব্দহীন ।
সাজানো চৌখুপী দ্বীপ
একা ভেসে থাকে রাত্রিদিন ।

 

ভোরের প্রথম আলো,
ফাল্গুনের প্রথম সাঁঝতারা -
অভিমানী ফিরে যায় …
বিলাসী নগর দিশাহারা !

 

তবুও শ্রাবণী রাতে
চকিত চাঁদের কড়া নাড়া !
চৌখুপী দ্বীপের দোরে দোরে
চলো পুঁতি বিবেকের চারা ।

 

মানুষটা না ফানুসটা ! জুন 3, 2008

যার অধীনে আছে: bangla, bengali, poem, poetry, কবিতা — মালিনী @ 10:23 pm
Tags:

If you are unable to read this Bangla (Bengali) poem due to problems with Bangla (Bengali) fonts, please click here for a format which does not require installation of Bangla (Bengali) fonts.

 

এ বাড়ির ব্যালকনি
ও বাড়ির ব্যালকনিকে চেঁচিয়ে বললে -
‘ ও মা দেখ, দেখ ! লোকটা বোধহয় মরলো !’
ও বাড়ির ব্যালকনি চোখ কপালে তুলে চেঁচালে -
‘ ও মা সেকি! এই ভরদুপ্পুরে ?
কি অলুক্ষুণে কাণ্ড বল্‌ ভাই ! ‘
তারপর এ বাড়ি ও বাড়ি
চোখ চাওয়াচাওয়ি, মুখ চাওয়াচাওয়ি করলে ।
দু ব্যালকনির দরজাদুটো বন্ধ হল।
বন্ধ দরজার আড়ালে বিবেক লুকোল ।

 

লোকটা কিন্তু তখনো মরেনি ।
দোকাঘরটার নোংরা দেওয়ালে
পিঠ ঠেকানো ছিল ।
আর বুকটা উঠছিল, নামছিল -
হাপরের মত ।
লোকটা বিড়বিড় করে বলছিল -
‘একটু জল ! একটু জল দাও ! একটু জল দেবে ?’
বলছিল -
কিন্তু কেউ শুনছিল না ।
কোনো মা লক্ষ্মী , নবকার্তিক অথবা পুরুষসিংহ -
কেউ না ।
রাস্তায় ছড়ানো ছিল তারা ।
তবু শুনছিল না ।
ওদের কানের মাথা শহর খেয়েছে।
আর চোখের মাথা ?
নিজেরাই !

 

শুকনো কাঠ বুক ,
শুকনো কাঠ দিন ।
ফুটিফাটা ঠোঁটে, জিভে
একটু লালাও ছিল না ।

 

মৃত্যু আসছিল -
পায়ে পায়ে, আস্তে আস্তে -
অমোঘ, স্থিরসঙ্কল্প ।
অসহায় শিকারকে গ্রাস করছিল
মাকড়সার মত ।
লোকটা মরে যাচ্ছিল ।
কিন্তু কেউ জানতে চাইছিল না ।
ঘাড় এলানো, শরীর এলানো ,
চামড়া কুঁচকোনো বুড়ো লোকটা -
একটু একটু করে মরে যাচ্ছিল ।

 

শহর তাকিয়ে দেখছিল না ।
মানুষ তলিয়ে ভাবছিল না ।
ব্যালকনির বন্ধ দরজার ওধারে -
মানুষ ছিল ! মানুষ ছিল না ।